This is a demo store for testing purposes — no orders shall be fulfilled. Dismiss
This is a demo store for testing purposes — no orders shall be fulfilled. Dismiss
📆প্রকাশ:
০৮ জানুয়ারি, ২০২৬
✒️লেখা:
আবু হোরায়রা ফাহিম
‘আড়ং’য়ের কথা শুনলে প্রথমে কি মাথায় আসে? কালো রংয়ের ব্যাকগ্রাউন্ডের ওপর রঙের নকশাকাটা ক্যালিগ্রাফি। কিংবা ফুডপান্ডার কথা ভাবলে? গোলাপি-সাদা রংয়ের একটা পান্ডা হাসিমাখা মুখে যেন ’হাই’ বলে যায় আমাদের। ব্র্যান্ড পজিশনিংয়ের একটা ট্যুল আমাদের চুজিং বায়াসকে নিয়ন্ত্রণ করে যাচ্ছে শত শত বছর ধরে।
প্রাচীন সভ্যতায় কারিগররা নিজের তৈরি জিনিসে আলাদা চিহ্ণ বসাতেন। রোমান মৃৎশিল্পীরা পাত্রের নিচে নাম বা চিহ্ণ খোদাই করতেন, যেন বোঝা যায় এই কাজটা কার। ধীরে ধীরে সেই চিহ্ণটাই হয়ে উঠল বিশ্বাসের প্রতীক। মানুষ আর শুধু পণ্য কিনছিল না, কিনছিল পরিচিত একটা হাতের কাজ। এইভাবেই লোগো হয়ে ওঠে ভরসা আর ব্র্যান্ডের সিম্বল।
সময় বদলেছে, বদলেছে মাধ্যম। এখন দোকানের সাইনবোর্ডের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় ফেসবুকের প্রোফাইল পিকচারের। বাংলাদেশে অসংখ্য ফেসবুক-কেন্দ্রিক পেজ আছে, কেউ ঘরে বানানো খাবার বিক্রি করছে, কেউ পোশাক, কেউ হস্তশিল্প। মজার ব্যাপার হলো, অনেক সময় আমরা পেজের নাম ভুলে গেলেও, লোগোটা চোখে লেগে থাকে। স্ক্রল করতে করতে ওই একটা নকশা দেখেই বুঝে যাই, “এটা ঐ ব্র্যান্ড।”
কিন্তু সব লোগো কি একই কাজ করে? না।
কিছু লোগো শুধু ব্র্যান্ডকে চেনায়, আর কিছু লোগো ব্র্যান্ডকে আপন করে তোলে। এই বিষয়টা অনুভব করা যায় ‘সপ্তক’ এর কাজ দেখে।
‘সপ্তক’ এর কর্ণধার অনন্যা পাল, সে শুধু একটা ব্যাগের ব্র্যান্ড বানায়নি। সে যেটা করেছে, সেটা খুব সিম্পল কিন্তু ভীষণ গভীর। তার নিজের ব্র্যান্ডের লোগো, এমনকি সোশ্যাল মিডিয়ার হ্যান্ডেলস পর্যন্ত সে নিজের হাতে এঁকে বসায় প্রতিটা ব্যাগে। প্রিন্ট না, স্টিকার না-হাতের লেখা, হাতের আঁচড়। তখন লোগো আর ‘গ্রাফিক এলিমেন্ট’ থাকে না। এটা হয়ে যায় একজন মানুষের উপস্থিতি কিংবা ‘পারসোনাল টাচ’। গ্রাহক জানে, এই ব্যাগটার উপর যে চিহ্ণটা আছে, সেটা যত্ন আর সময় নিয়ে করেছে কেউ। এই অনুভূতিটাই ব্র্যান্ডের সাথে ব্যাক্তির একটা দারুণ সখ্যতা তৈরি করে। মনে হয়, পণ্যটা শুধু কেনা হয়নি, পণ্যটা যেন সে মানুষটা ওউন করে, যেন তার খুব আপন।
‘আমু’ উদ্যোক্তাদের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ‘সপ্তক’ এর মত দারুণসব উদ্যোগ আর গল্পকে এক মঞ্চে নিয়ে আসে। আলাদা আলাদা গল্প, আলাদা আলাদা হাতের কাজ, কিন্তু একটা কমন বিশ্বাসের জায়গা। এখানে ’সপ্তক’ এর মত প্রতিটি উদ্যোক্তার নিজস্ব পরিচয়টা টিকিয়ে রেখে একসাথে এগোনেই আমুর লক্ষ্য।
সপ্তকের এই শৈল্পিক স্বকীয়তা শুধু লোগোটাকে বিজনেসের সিম্বল করে রাখে না, বরং করে তোলে মানুষের সাথে মানুষের যোগাযোগ আর আস্থার একটা প্রতীক।
~ আমুXসপ্তক